ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষিদের দামে খরচ উঠছে না, বিক্রি করছেন লোকসানে
ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষিরা লোকসানে, খরচও উঠছে না

ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ চাষিরা উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের দাম এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

লোকসানের মুখে পেঁয়াজ চাষিরা

ফরিদপুর সদর উপজেলার পেঁয়াজ চাষি মো. আব্দুল কাদের জানান, ‘প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৩০ টাকা, কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়। ফলে প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’ একই কথা শোনা যায় জেলার অন্যান্য চাষিদের কণ্ঠেও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম কমেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দাম কমার কারণ

চাষিরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পেঁয়াজ আমদানি এবং স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমেছে। এছাড়া করোনা মহামারির প্রভাবও বাজারে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা। ফরিদপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন বলেন, ‘এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় চাষিরা হতাশ।’

সরকারের ভূমিকা

চাষিরা সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘সরকার যদি পেঁয়াজের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে আমরা লোকসান থেকে রক্ষা পাব।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ‘চাষিদের সমস্যা সমাধানে আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিরা এখন লোকসান সামলে পরবর্তী মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বাজারে দাম না বাড়লে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ