পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণে আট হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের
পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণে আট হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপন

পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণে বিপ্লব আনবে আট হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন

সরকার পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পেঁয়াজ-রসুন অধিক উৎপাদনশীল এলাকাসহ সারাদেশে আট হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সংসদে উত্থাপিত হয় সংরক্ষণের জরুরি প্রশ্ন

রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ তার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে, আমাদের দেশে সেই পরিমাণ উৎপাদিত হয়। কিন্তু, সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর ছয় থেকে সাত লাখ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়।” তার প্রশ্নের মূল উদ্দেশ্য ছিল—পেঁয়াজ উৎপাদন বেশি এমন অঞ্চলে পর্যাপ্ত এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে মডেল ঘর তৈরি করা হলে ৬০০ থেকে ৮০০ মণ পেঁয়াজ নির্বিঘ্নে সংরক্ষণ সম্ভব। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, পর্যাপ্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

কৃষিমন্ত্রীর জবাবে আশার আলো

জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “একেবারে সঠিক প্রশ্ন করেছেন। এটা দেশের জন্য একটা বড় ধরনের সমস্যা ছিল। বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, বিশেষ করে রাজবাড়ীতে। উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে না পারায় আমাদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।” তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের কৃষকরা পেঁয়াজ অপচয় থেকে বেঁচে যাবে এবং দেশ ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্পের বিস্তারিত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

কৃষিমন্ত্রী আরও বিস্তারিত জানান, এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণের লক্ষ্যে কৃষি বিপণন অধিদফতর একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়েছে। এই প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা হবে:

  • রাজবাড়ীসহ সারাদেশে পেঁয়াজ ও রসুন অধিক উৎপাদনশীল এলাকায় মোট আট হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হবে।
  • অনুমোদন সাপেক্ষে রাজবাড়ী-২ এর পাংশা, বালিয়াকান্দা ও কালুখালি উপজেলায় ৮০০ থেকে এক হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হবে।
  • এই মেশিনগুলির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুনের দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে, যা বর্তমানে ২৫-৩০% নষ্ট হওয়ার হার কমিয়ে আনবে।

এই উদ্যোগটি কৃষি খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি শুধু পেঁয়াজ-রসুনের অপচয়ই নয়, কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করবে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন।