শরীয়তপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আটক: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০০ বস্তা সরকারি চাল আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দুপুরে, যখন একটি ট্রাক জেলা শহরের ওপর দিয়ে জাজিরার দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে চালসহ ট্রাকটি পালং মডেল থানার সামনের সড়কে আটকানো হয়।
চালান নিয়ে সন্দেহ ও আটকের ঘটনা
ট্রাকে থাকা লোকজন চালের পক্ষে কোনো চালান দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের নামে বরাদ্দের একটি চালান নিয়ে হাজির হন। তবে চালানটি সঠিক কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন চালসহ ট্রাকটি নিতে দেননি।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে ট্রাকটি আংগারিয়া খাদ্যগুদামের দিকে রওনা দেওয়ার পর, স্থানীয়রা আবার শহরের চৌরঙ্গী এলাকায় আটকে দেন। গভীর রাতে চালসহ ট্রাকটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
চাল জব্দ ও তদন্ত কমিটি গঠন
গতকাল মঙ্গলবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ট্রাকের চাল পরিমাপ করে জব্দ করেছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন:
- গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তরিকুল ইসলাম
- জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান
- জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন
কমিটির দায়িত্ব ও আইনগত পদক্ষেপ
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের নামে চালগুলো বরাদ্দ হয়েছে, এমন কাগজপত্র পেয়েছি। তারপরও ঘটনাটি তদন্তের জন্য চালগুলো জব্দ করে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আংগারিয়া খাদ্যগুদাম থেকে চাল বের করা হয়েছে। মজুত খাদ্যশস্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাইসহ চাল কীভাবে ও কোন খাতে গুদাম থেকে বের হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো অসংগতি দেখা গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এই ঘটনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের সক্রিয় ভূমিকা এবং দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন প্রশাসনের তৎপরতা নির্দেশ করে।



