পদ্মা নদীতে অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, জাটকা রক্ষায় জোরালো তৎপরতা
পদ্মা নদীতে অভিযানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জাটকা রক্ষায় তৎপরতা

পদ্মা নদীতে নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও জাটকা রক্ষায় জোরালো অভিযান

ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে অবৈধ মৎস্য শিকার চলছে। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে এই কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান তীব্র হয়েছে।

যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

আজ সোমবার দুপুরে দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে একটি বড় আকারের অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় এক লাখ দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং কয়েকটি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে জব্দকৃত জালগুলো নদীর পাড়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে।

গতকালের অভিযানে জাটকা জব্দ ও জেলেদের জরিমানা

এর আগে গতকাল রোববার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে চালানো অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ২০টির মতো বড় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল এবং প্রায় ১৬০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। এ সময় জাটকা আহরণের দায়ে মধু সরদার, মাহতাব প্রামাণিক ও সাদ্দাম সরদার নামের তিন জেলেকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের নেতৃত্ব দেন গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান। সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট ইলিশ বা ‘জাটকা’ আহরণে বিরত থাকতে জেলেদের সতর্ক করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পয়লা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা বৃদ্ধি ও জেলেদের কার্যক্রম

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় জেলেরা সুযোগ বুঝে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারে নামছেন। তারা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ছোট ছোট ইলিশ আহরণ করছেন, যা জাটকা হিসেবে পরিচিত। অভিযানের খবর পাওয়ামাত্র তারা জাল গুটিয়ে নদীর এক পাশে নালায় গিয়ে লুকিয়ে পড়ছেন। পয়লা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবদুল হালিম নামের এক জেলে বলেন, "বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেছে। জেলেরা সুযোগ বুঝে নদীতে নেমে পড়ছেন। জালে বড় ইলিশের চেয়ে ছোট আকারের ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে। ১ কেজিতে ৮ থেকে ১২টি করে জাটকা হচ্ছে; দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।"

মৎস্য বিভাগের নজরদারি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত শিকার, আহরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এক শ্রেণির জেলে ও অসাধু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে নামছে। তবে জাটকা সংরক্ষণ উপলক্ষে জোরালো অভিযান চলছে। জেলার অন্যান্য উপজেলার বাজারগুলোতে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে যাতে কোনো অবৈধ কার্যক্রম না ঘটে।

এই অভিযানগুলি ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলির দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।