সুনামগঞ্জের ডাকুয়ার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, ১৫ জন আহত, জারি ১৪৪ ধারা
সুনামগঞ্জে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫, জারি ১৪৪ ধারা

সুনামগঞ্জের ডাকুয়ার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষায় বাঁধ কাটা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরে এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বাঁধ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বিরোধের পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর, সরদারপুর ও জয়নগর এবং কাঠইর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, উলুতুলসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ফসলি জমি রয়েছে। টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ধান রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কৃষকেরা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গতকাল শুক্রবার নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন বাঁধ কাটার উদ্যোগ নেন। তবে এতে আপত্তি জানান মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাঁধ এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের ঘটনা

তবে বৈঠক চলাকালেই নোয়াগাঁওসহ আশপাশের গ্রামের লোকজন বাঁধ কেটে ফেলেন। এ সময় মোহনপুর ও আশপাশের এলাকার লোকজন বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, "বাঁধ কাটলে হাওরের একাংশের কৃষকের ফসল রক্ষা পেলেও অন্য অংশের ক্ষতি হবে। এ কারণে এক পক্ষ বাঁধ কাটতে চায়, আরেক পক্ষ বাধা দেয়—এ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।"

প্রশাসনের পদক্ষেপ

সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বাঁধ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যা এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনা সুনামগঞ্জের কৃষি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে জল ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান চ্যালেঞ্জগুলিকে উন্মোচিত করে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নজরদারি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রেখেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।