জামালপুরে প্রশাসনের উদ্যোগে সেচপাম্পে জ্বালানি সরবরাহ, কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর
জামালপুরে সেচপাম্পে জ্বালানি সরবরাহ, কৃষকদের স্বস্তি

জামালপুরে প্রশাসনের তৎপরতায় সেচপাম্পে জ্বালানি সরবরাহ শুরু

জামালপুর সদর উপজেলার চরচন্দ্রা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ বজলু শেখের (৬৫) সেচপাম্পটি ডিজেলের অভাবে কয়েক দিন ধরে বন্ধ ছিল, যা তাঁর বোরো ধানের জমিতে পানি দেওয়ার কাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় তাঁর পাম্পটি আবার সচল হয়েছে, ফলে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।

প্রতিবেদনের প্রভাব ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ

গত বুধবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে এবং পরদিন প্রিন্ট সংস্করণে ‘ডিজেলের অভাবে চলছে না সেচপাম্প, ধানখেত ফেটে চৌচির, উৎকণ্ঠায় কৃষক’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ নড়েচড়ে বসে এবং যৌথ উদ্যোগে ডিজেলচালিত সেচপাম্পের কৃষকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন পাম্প থেকে জ্বালানি সরবরাহ শুরু করে।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শরীফ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিন থেকেই ডিজেলচালিত সেচপাম্পের কৃষকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রতিবেদন কৃষিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার দিয়ে সেচপাম্পের কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের প্রতিক্রিয়া ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম

কৃষক মোহাম্মদ বজলু শেখ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘মনে হলো জাদুর মতোই তেল পেয়ে গেলাম। আগে বুঝতাম না একটি খবরের কতটা প্রভাব থাকতে পারে, এবার তা নিজের চোখে দেখলাম। কর্মকর্তারা সঙ্গে থেকে সেচপাম্প চালু করে জমিতে পানি তুলে দিয়ে গেছেন।’ একইভাবে, কৃষক মামুন মিয়া দ্রুত জ্বালানি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন যে সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তায় এখন সেচপাম্প চালু হয়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

শরীফ আলম খান আরও বলেন, তাঁদের কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেন এবং খেতে গিয়ে সেচপাম্প চালু করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজনের জন্য নয়, পুরো জেলার ডিজেলচালিত সেচপাম্পনির্ভর কৃষকদের জন্যই করা হয়েছে, এবং আশা প্রকাশ করেন যে এতে সেচ নিয়ে আর সংকট থাকবে না।

প্রশাসনের বিস্তৃত উদ্যোগ ও পরিসংখ্যান

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ জানান, ডিজেলচালিত সেচপাম্পনির্ভর কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে জেলার সব পাম্প ও ডিলার পয়েন্টে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পাম্প ও ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদরসহ সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। জেলায় ডিজেলচালিত সেচপাম্পের সংখ্যা ৩৬ হাজার এবং বিদ্যুৎ–চালিত সেচপাম্প ১৯ হাজার ৭০০টি, যা এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।