বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
বাগেরহাটে বৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা

বাগেরহাটে বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে টানা ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও রোদহীন আবহাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও হঠাৎ টানা তিন দিনের অতিবৃষ্টিতে শেষ রক্ষা হয়নি। জেলার ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া বোরো ধানের বড় একটি অংশ এখনও মাঠে আছে। কোথাও কাটা ধান ভিজে নষ্ট হয়েছে, কোথাও জমিতে পানিতে তলিয়ে গেছে।

মাঠ পরিদর্শনে চরম দুর্দশা

জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বৃষ্টির আগে ধান কাটলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারছেন না। আবার যারা ধান কাটতে পারেননি, তাদের ক্ষেতেই জমেছে বৃষ্টির পানি। এতে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কচুয়া সদরের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘অনেক কষ্টে ঋণ করে ধান চাষ করেছি। ধান ভালোই হয়েছিল, কিন্তু এই বৃষ্টিতে এখন সব অনিশ্চিত। কিছু ধান কেটেছি, কিন্তু শুকাতে পারছি না। আর যেগুলো মাঠে আছে, সেগুলো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাগেরহাট সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃষক হাকিম মল্লিক বলেন, ‘বৃষ্টির খবর পেয়ে শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটতে শুরু করি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ। কাটা ধান ভিজে যাচ্ছে, শুকানোর জায়গা নেই। যদি আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

একই এলাকার কৃষক আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, ‘এবার সার, সেচ, শ্রমিক সবকিছুর খরচ অনেক বেশি। ধান ঠিকমতো ঘরে তুলতে না পারলে পুঁজি হারাতে হবে। কৃষকের জন্য এটা বড় ধাক্কা। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।’

উৎপাদন খরচ বেড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের এমন ক্ষতি তাদের চরম সংকটে ফেলেছে। বিশেষ করে, নিম্নাঞ্চলের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি বিভাগের তথ্য ও পরামর্শ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারলেও প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের ধান কাটা অবস্থায় মাঠে পড়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দ্রুত বৃষ্টি কমে গেলে এবং রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।’

কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা, নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে।

প্রহর গুনছেন কৃষক

এদিকে, আকাশের দিকে তাকিয়ে এখন প্রহর গুনছেন বাগেরহাটের কৃষকরা। সারা মৌসুমের শ্রম, ঘাম আর বিনিয়োগের সোনালি স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কতটা ঘরে উঠবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার কৃষকদের মাঝে।