কালবৈশাখী ঝড়, টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়িতে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাকা ধান, সবজির পাশাপাশি ফলবাগানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতির পরিমাণ
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দুদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় ২২১ হেক্টর জমির বোরো পাকা ধান, ৬৩ হেক্টর জমির সবজি এবং ৫৪৮ হেক্টর ফলবাগান ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৭৩২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দীঘিনালা ও মাটিরাঙা উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
দীঘিনালায় ক্ষতি
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কয়েক ঘণ্টায় ৪৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধান, ফলবাগান ও সবজির ক্ষতি হয়েছে বেশি। দীঘিনালায় ৩২৫ হেক্টর ফলবাগান, ১২৫ হেক্টর বোরো ধান এবং ১৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকের দুর্দশা
দীঘিনালার চাষি মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমি ৫ একর জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েকদিন পরে ধান কাটার কথা। এখন সব ধান পানিতে ডুবে আছে। আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমি কী করব? সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। ভারি বর্ষণের কারণে অনেক কৃষক তাদের মৌসুমি ফসল হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চাষিরা বলছেন, বোরো মৌসুমে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। এ অবস্থায় প্রবল বর্ষণ ও ঢলের কারণে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাটা অবস্থায় অনেক চাষির ধান তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আম চাষিদের ক্ষতি
একইভাবে প্রচণ্ড ঝড়ে বাগানের গাছের আম ঝরে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম চাষিরা। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি গ্রামের কৃষক মংশিতু চৌধুরী বলেন, আমার বাগানের আয়তন প্রায় ৩৫ একর। গত বছরের মতো এবারও প্রচুর আম ঝরে গেছে। ঝড়ে একদিনে প্রায় ২ হাজার কেজি আম ঝরে পড়ে গেছে। স্থানীয় আরেক আম চাষি রাজু চাকমা বলেন, আমার প্রায় ১২ একরের আম বাগান। আম্রপালি, বারি ফোরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম ঝরে গেছে। বাগানিদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের আশ্বাস
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা এর মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির একটা প্রাথমিক হিসাব করেছি। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে তালিকা আমরা ঢাকায় অধিদপ্তরে পাঠাব। অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।



