ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশের পর অনুসন্ধানে নামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিস। সংবাদের সত্যতা প্রমাণ পেয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী নামজুল করিম।
অনিয়মের বিবরণ
সাম্প্রতিক সময়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিংজোর বাজার হয়ে আজগোরা নরেন্দ্র সরকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার সড়ক (বিসি) নির্মাণ কাজে ইট, বালু, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন, স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং টেন্ডার বিধিমালা না মানার মতো অনিয়ম ধরা পড়ে। নির্মাণসামগ্রীর মানেও অসংগতি দেখা যায়।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান
মেসার্স ডাস ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এক বছর মেয়াদে এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। চুক্তিনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৮১ হাজার ২ শত ১০ টাকা।
প্রকৌশলীর বক্তব্য
পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রকৌশলী নামজুল করিম বলেন, ‘জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে রোববার ভিজিটে গিয়ে নিম্নমানের ইটের খোয়া দেখতে পাই। তাৎক্ষণিকভাবে চিঠি ইস্যু করেছি।’
ঠিকাদারের প্রতিক্রিয়া
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচালক মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, ‘প্রকৌশলী আমার কাজের স্থান পরিদর্শন করেছেন বলে জেনেছি। আমরা উনার নির্দেশনার বাইরে নই। কাজের কোথাও কোনো অনিয়ম বা ক্রটি থেকে থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’
সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক সোমবার কাজের নিম্নমান দেখে প্রকৌশলীকে ফোন করেন। আপাতত ওই স্থানের কাজ বন্ধ রয়েছে।



