জবি ক্যাফেটেরিয়ায় তেহারির মাংসে মুরগির লোম, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জবি ক্যাফেটেরিয়ায় তেহারির মাংসে মুরগির লোম, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ফের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবার ক্যাফেটেরিয়া থেকে কেনা তেহারির মাংসে মুরগির লোমযুক্ত মাংস পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন এই অভিযোগ করেন।

ঘটনার বিবরণ

জানা যায়, আজ সকালে আবদুল্লাহ আল মামুন ক্যাফেটেরিয়া থেকে তেহারি কিনে খেতে বসেন। খাওয়ার এক পর্যায়ে তিনি মাংসে মুরগির চামড়ার সঙ্গে লোম যুক্ত থাকতে দেখেন। অস্বাস্থ্যকর এই খাবারের ছবিটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঘটনার শিকার ওই শিক্ষার্থী চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সকালে ক্ষুধা নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় তেহারি খেতে যাই। খাওয়ার এক পর্যায়ে একটি মাংসের টুকরো হাতে নিতেই দেখি, মুরগির চামড়ার সঙ্গে বেশ কিছু লোম লেগে আছে। দৃশ্যটি দেখে আমার বমি আসার উপক্রম হয় এবং আমি সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে উঠে যাই।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান নিয়ে অনেক আগে থেকেই আমাদের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এভাবে না বেছে অপরিষ্কার মাংস রান্না করা বাবুর্চি ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ। আমরা টাকা দিয়ে খাবার কিনে যদি এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির শিকার হই, তবে এর দায় কে নেবে? প্রশাসনের উচিত দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যেন আর কোনো শিক্ষার্থীকে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে না হয়।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “ক্যাফেটেরিয়া হলো শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার খাওয়ার জায়গা। কিন্তু সেখানে যদি অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয়, তবে আমরা কোথায় যাবো? মাংসে মুরগির পালক থাকা প্রমাণ করে যে রান্নার আগে মাংস ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয়নি।”

অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, “মাঝেমধ্যেই খাবারে পোকা, চুল বা এমন অপরিষ্কার জিনিস পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এই ব্যাপারে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, “আমরা একজন থেকে মুরগি আনি। সেখান থেকে মুরগি কেটে দেয়। আমার লোক গিয়ে নিয়ে আসে। সেখান থেকে এমন দিয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।”

জকসু নেতার প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে মুরগির লোম পাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নাবান্না এবং তদারকিতে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই বারবার এমন অরুচিকর ঘটনা ঘটছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের টাকায় পরিচালিত ক্যাফেটেরিয়ায় কোনো ধরনের স্বাস্থ্যহীনতা ও নোংরামি আমরা মেনে নেবো না। জকসুর পক্ষ থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘর পরিদর্শন করে এই অবহেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের বক্তব্য

এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে এম রিফাত হাসান বলেন, “তারা ক্যাফেটেরিয়ায় অনেকগুলো মুরগি কিনে একসঙ্গে কেনে। তারপর তারা কীভাবে প্রসেস করে তাদের থেকে শুনে ব্যবস্থা নেবো।”