দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মাত্র ১৫ ঘণ্টা উৎপাদনে ফেরার পর আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রটির বয়লার টিউব বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বয়লার টিউব বিস্ফোরণে প্রথম ইউনিট বন্ধ
বয়লার টিউব ফেটে যাওয়ার কারণে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে প্রথম ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উৎপাদন। তখন দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয় এবং ৪৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়।
মেরামতে সময় লাগবে ৫-৬ দিন
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে বয়লারের স্টিম ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে।
তিন ইউনিটের সবই অচল
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়, পরে ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি উৎপাদনে আসে। বেশ কয়েক মাস ঢিমেতালে চলার পর গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টা ১০ মিনিটে আবার ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ।
কেন্দ্রের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে খনির পাশেই ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথম অবস্থায় ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আরেকটি ইউনিট চালু করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় কখনই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একসঙ্গে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। বর্তমানে তিনটি ইউনিটই অচল থাকায় কেন্দ্রটি থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।



