আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) নেতারা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে প্রতি টন রডের দর গড়ে ১ হাজার ৭৮৫ টাকা বাড়তে পারে। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুলসহ অন্যান্য ব্যয়ের কারণে প্রতি টন রডের দাম ৩ হাজার ৫৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব নয়
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তাদের ওপর স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। কারণ, তাতে বিক্রি কমে যাবে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ কোম্পানিগুলোকেই বহন করতে হবে। এতে শিল্পকারখানা আরও রুগ্ণ হবে এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি দিতে পারবে না, যা বেকারত্ব বাড়াবে।
বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতার বোঝা শিল্পের ওপর না চাপানোর দাবি
বিএসএমএ সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমরা বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন। তবে বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত অদক্ষতা, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার আর্থিক বোঝা উৎপাদনশীল শিল্প খাতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই বা কার্যকর সমাধান হতে পারে না।' তিনি আরও বলেন, এতে শিল্প উৎপাদন কমবে, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনার আহ্বান
বিএসএমএর মহাসচিব সুমন চৌধুরী বলেন, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং পরের অর্থবছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। তিনি চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে।' তিনি সরকারি দপ্তরের ব্যয়ের জবাবদিহি এবং খরচের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
সরকারের প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান
সুমন চৌধুরী আরও বলেন, 'শিল্পকারখানা লোকসান দিয়ে চালিয়ে রেখেছেন উদ্যোক্তারা। সরকারের উচিত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।'
চলতি মাসের শুরুতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।



