মধুমাসে মধুফলের ঘ্রাণে বিমোহিত রাঙামাটির পাহাড়
মধুমাসে মধুফলের ঘ্রাণে বিমোহিত পাহাড়

জ্যৈষ্ঠ মাস, যাকে মধুমাস বলা হয়, তার তাৎপর্য মধুফল নিয়ে। চলতি মধুমাস প্রায় শেষের দিকে এলেও এই মুহূর্তে রাঙামাটির পাহাড় ভরপুর মৌসুমি ফলের সমাহারে। মধুফলের ম-ম ঘ্রাণে বিমোহিত হয়ে উঠেছে পাহাড়ি এলাকা ও হাটবাজার।

স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে জেলার বাইরে

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে পাহাড়ে উৎপাদিত মৌসুমি ফল স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে জেলার বাইরেও বাজারজাত হচ্ছে। জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা থেকে আশপাশের হাটবাজারে আসছে টসটসে রসালো মিষ্টি আনারস, লিচু, আম ও কাঁঠাল। কলা তো সারা বছরই পাওয়া যায়। প্রতিদিন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে পাহাড়ের ফল আনা হচ্ছে জেলা শহরের সমতাঘাট, তবলছড়ি, পৌর ট্রাক টার্মিনাল ঘাটসহ আশপাশের হাটগুলোতে।

পরিবহণ ও দাম

প্রচুর আনারস, আম, কাঁঠাল ও কলা ট্রাক-মিনিট্রাকে বোঝাই করে জেলার বাইরে পাঠানো হচ্ছে। তবে এ বছর দাম কিছুটা কম হওয়ায় মনঃক্ষুণ্ণ কৃষকরা। উৎপাদন প্রচুর হওয়ায় বেচাকেনায় দাম সুলভ বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকলেও এখন বাজার ভরপুর থাকায় সুলভ মূল্যে ফলমূল বেচাকেনা করতে হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিটি আনারসের দাম ১০-৩০ টাকা, আম প্রতি কেজি ৪০-১০০ টাকা, ১০০ লিচুর দাম ১০০-১৫০ টাকা এবং কাঁঠাল প্রতিটি ৩০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি দাম আরও কম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্চফলনের কারণ

কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষিবিদরা জানান, উপযুক্ত আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতার কারণে রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় আম, আনারস, লিচু ও কাঁঠালের উচ্চফলন পাওয়া যাচ্ছে। আনারস চাষে এক জাতীয় হরমোন ব্যবহার করে উচ্চফলনের পাশাপাশি আগাম ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পাহাড়ে আমের মধ্যে আম্রপালি, রাংগুই, ব্যানানা, হাঁড়িভাঙাসহ বিভিন্ন জাতের চাষ হচ্ছে। টসটসে, রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় এসব আমের কদর বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লিচু ও কলা

লিচুর মধ্যে চায়না-২ ও চায়না-৩ জাতের দাম ও কদর বেশি। এছাড়া দেশি, বোম্বে ও মোজাফ্ফরি জাতের লিচুও চাষ হয় পাহাড়ে। পাহাড়ি এলাকায় বাংলা কলা ও চাঁপা কলার চাষ সারা মৌসুমে হয়। এসব কলার ফলন খুব ভালো, তাই মৌসুমজুড়ে বাজারে বিক্রি হয় এখানকার কলা।

চাষের পরিসংখ্যান

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার জেলায় ৩ হাজার ৬২৮ হেক্টর জমিতে আম, ৩ হাজার ৩৭৩ হেক্টরে কাঁঠাল, ১৯ হাজার ৩ হেক্টরে লিচু ও ২ হাজার ৫৩৭ হেক্টরে আনারস চাষ হয়েছে। এসব ফলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে, যা ছিল ২ লাখ টনের বেশি।

কৃষি বিভাগের সহায়তা

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ে উপযোগী আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির চাষাবাদে আনারস, কাঁঠাল, আম, লিচুসহ মৌসুমি ফলের ভালো ফলন ও উৎপাদন হচ্ছে। চাষাবাদে প্রশিক্ষণসহ কৃষকদের বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে এসব ফলের ভরা মৌসুম চলছে।