বাংলাদেশ এবং তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুক্রবার ঢাকায় এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দুই দেশের সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তুরস্কের একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিলেন।
এমওইউর উদ্দেশ্য
এই এমওইউর লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং প্রচারে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করা। এমওইউর আওতায় উভয় দেশ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আর্কাইভ নথি, গ্রন্থাগার উপকরণ, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশন এবং পুনরুদ্ধার উদ্যোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।
পূর্ববর্তী চুক্তির ধারাবাহিকতা
এমওইউটি ১৯৮১ সালের ৯ মার্চ দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল স্বাক্ষরিত শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, শিল্প, সংবাদ ও তথ্য, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সহযোগিতা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তৈরি করা হয়েছে।
ইউনেস্কো কনভেনশন অনুযায়ী কাজ
এমওইউর কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ ও তুরস্ক সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ আমদানি, রপ্তানি ও মালিকানা হস্তান্তর রোধে ইউনেস্কোর ১৯৭০ সালের কনভেনশন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করবে। এছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, ডকুমেন্টেশন এবং সাংস্কৃতিক সম্পদের তালিকা ও ম্যাপিংয়েও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
মন্ত্রীদের বক্তব্য
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, এই এমওইউ বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে। তিনি বলেন, তুরস্কের উন্নত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রশংসা করে চুক্তির সফল বাস্তবায়নে তুরস্কের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই এমওইউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং ঐতিহ্য ও সভ্যতার ভাগ করা মূল্যবোধ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে।



