কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: মন্ত্রী
কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুমিল্লায় কৃষি যন্ত্র বিতরণ

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে 'কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প' এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপিয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রুপের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র (রিপার), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি, ক্যানভাস পাইপ ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সরকারের কৃষি উদ্যোগ

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্প্রসারণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে হবে। কৃষক সমৃদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক নিবন্ধন ও কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মা-বোনদের সামাজিক ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাল পুনঃখনন ও সেচ ব্যবস্থা

মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার দেশের কৃষি উন্নয়নে খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার বাস্তবসম্মত খাল পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যাতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ধান কাটা, মাড়াই ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক সমিতি ও সংগঠনের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর সম্প্রসারণ করা হবে।

মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা

মন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কৃষকের সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শসেবা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত, বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মো. নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষক-কৃষাণিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাছের পোনা অবমুক্ত

এর আগে মন্ত্রী সোমবার (২৫ মে) সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকুক। প্রতিটি ইঞ্চি জমি ও জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় এনে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরো বাড়ানো হবে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে প্রতিটি সম্পদকে কাজে লাগানো হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি, জলাশয় বা অন্য কোনো উৎপাদনক্ষম সম্পদ হোক সবকিছুকেই উৎপাদনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের পুষ্টিচাহিদা পূরণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপক পরিসরে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল বাসার ভূঁঞা, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।