নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: ৬ বছরে ১৮৮ প্রাণহানি, উদাসীনতার অভিশাপ
নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: ৬ বছরে ১৮৮ প্রাণহানি

নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের পরিসংখ্যান শুধু বিস্ময়কর নয়, ভয়াবহও বটে। মাত্র সাড়ে ছয় বছরে এই শিল্প ও বাণিজ্যিক শহরে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা আমাদের সামনে এক কঠিন সত্য তুলে ধরে: এটি অবহেলা, দায়মুক্তি ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার এক জঘন্য অভিযোগ। কিভাবে বছরের পর বছর এই ট্র্যাজেডি ঘটতে দেওয়া হচ্ছে?

শিল্পের হাব, অগ্নিকাণ্ডের নগরী

নারায়ণগঞ্জ শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল, কিন্তু লজ্জার বিষয়, এটি অগ্নিকাণ্ডের ট্র্যাজেডির জন্যও সমার্থক হয়ে উঠেছে। কারখানা, গোডাউন এবং আবাসিক ভবন—সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, রেখে গেছে শোকাহত পরিবার ও পোড়া ধ্বংসাবশেষ। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, প্রতিটি ঘটনায় একই ব্যর্থতা উন্মোচিত হয়—অবরুদ্ধ প্রস্থান পথ, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার, অগ্নি-ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণের অনিরাপদ মজুদ এবং নিরাপত্তা বিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষা।

তদন্ত কমিটি গঠন, কিন্তু বাস্তবায়ন শূন্য

প্রতিবার বড় অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি গঠন, প্রতিবেদন প্রকাশ, কিন্তু সব শেষে প্রশাসনিক নীরবতায় সব মিলিয়ে যায়। এই চক্র আবারও শুরু হয়, এবং জীবন হারানোর ধারা অব্যাহত থাকে। মালিকরা নিরাপত্তায় খরচ কমাতে কসরত করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে, আর শ্রমিক ও বাসিন্দারা নিজেদের প্রাণ দিয়ে এর মূল্য দেন। নারায়ণগঞ্জে বিপুল সংখ্যক মৃত্যু জাতীয় ক্ষোভ ও সিদ্ধান্তমূলক সংস্কারের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরিবর্তে উদাসীনতাই জয়ী হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা জরুরি

বাংলাদেশ এই উদাসীনতা বহন করতে পারে না। অগ্নি নিরাপত্তাকে অবশ্যই একটি অ-আলোচনাযোগ্য অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করতে হবে। প্রশ্নটি সহজ: আর কতজন পুড়ে মরার আগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ট্র্যাজেডি নিরাপত্তার প্রতি আমাদের সামগ্রিক উদাসীনতার একটি আয়না। সরকার যদি জীবন রক্ষায় সিরিয়াস হয়, তবে অবহেলার এই চক্র ভাঙতে হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু সহ্য করতে থাকবো, নাকি অবশেষে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলবো যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং জীবনকে মূল্য দেওয়া হয়।