পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে আনা ‘কালা মানিক’ নামের একটি বিশাল গরু রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি কোরবানির হাটে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। গতকাল রোববার দুপুরে হাটের ১ নম্বর হাসিল ঘরের কাছে গরুটির পাশে বাঁধা একটি খাসিও দেখা যায়। কালো-সাদা লোমশ শরীর ও বাঁকানো শিংয়ের এই প্রাণী দুটি পাশাপাশি বাঁধা অবস্থায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
গরুর পরিচিতি ও দাম
গরুটির মালিক সোহাগ মৃধা। তাঁর চাচা মজিবর জমাদ্দার জানান, ‘কালা মানিক’ গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ৪৫ মণ (১ হাজার ৮০০ কেজি)। সাত বছর ধরে বাড়িতে লালনপালন করা হয়েছে। পাশের খাসিটি আলাদাভাবে বিক্রি করা হবে না; বরং ‘কালা মানিক’ কেনা ক্রেতাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। খাসিটির ওজন প্রায় ৫০ কেজি।
দুপুর পর্যন্ত নির্দিষ্ট দাম না জানালেও বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুঠোফোনে সোহাগ মৃধা জানান, গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ২২ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তবে ২০ লাখ টাকা পেলেই গরুটি বিক্রি করে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের।
ঢাকায় কোরবানির হাট শুরু
গতকাল থেকে রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশুর হাট শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ২১টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও বসেছে ২০টি হাট। দুই সিটি এলাকায় ১০টি করে অস্থায়ী হাট পরিচালিত হচ্ছে। অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি গাবতলী ও সারুলিয়ায় দুটি স্থায়ী পশুর হাটেও কেনাবেচা জমে উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আনা ‘যমজ’ গরু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ২৬টি গরু নিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে এসেছেন পাইকার আক্তার ব্যাপারী। এর মধ্যে দুটি বড় গরু গঠন, রং ও আকৃতিতে এতটাই মিল যে অনেকেই ‘যমজ গরু’ মনে করছেন। আক্তার ব্যাপারী জানান, বাছুর অবস্থায় কিনে সাড়ে তিন বছর ধরে বাড়িতে পালন করেছেন। কাঁচা ঘাস, বিচালি ও গমের ভুসি খাইয়ে বড় করা হয়েছে। প্রথমে ২৫ লাখ টাকা চাইলেও এখন ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ছাড়তে রাজি আছেন।



