বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে প্রবেশ করে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গালানিয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জরুরি কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন নির্মাণ শ্রমিক আরমান মিয়া (২১), ইমাম হোসেন (৩৪), হৃদয় মিয়া (৩২) ও মেহেদী হাসান। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, পুলিশ উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে এবং মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা আলী মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়ির ১০ ফুট গভীর সেপটিক ট্যাঙ্কে পাইপ ফিটিংয়ের কাজ করতে প্রবেশ করেছিলেন। ট্যাঙ্কে ঢোকার পর তারা সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয় ও বাড়ির মালিক ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। ফায়ার ফাইটার ও পুলিশ একে একে ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। আরমান মিয়ার চাচা আব্বাস আলী অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী তত্ত্বাবধান ছাড়াই ১০ ফুট গভীর সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। তিনি আলী মিয়ার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। হৃদয় মিয়ার শাশুড়ি সালমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার মেয়ে বিধবা হয়েছে এবং তিনি বাড়ির মালিককে দায়ী করে তার গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করেন।
তদন্ত ও ব্যবস্থা
কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদ হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তিনি বলেন, ট্যাঙ্কের ভেতরে অক্সিজেনের অভাব বা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ৯৯৯ কল পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায় এবং উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মিথেন গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক আলী মিয়া পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ জানিয়েছে, একটি মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে।



