২২ মণ ওজনের ‘আকাশ ছোঁয়া’ ষাঁড় রাজবাড়ীর কুরবানির হাটে
২২ মণ ওজনের ‘আকাশ ছোঁয়া’ ষাঁড় রাজবাড়ীর হাটে

রাজবাড়ীতে এবার কুরবানির হাট মাতাবে অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু ‘আকাশ ছোঁয়া’। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে এই গরুটি লালন-পালন করা হচ্ছে। গরুটির আকার-আকৃতি এবং ওজনে বেশি হওয়ায় জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করছেন মালিক।

মালিকের পরিচিতি ও গরুর নামকরণ

গরুর মালিক রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ডাঙ্গিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লোকমান শেখ। তার পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠেছে গরুটি। মালিকের থেকেও উঁচু ও লম্বা হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে ‘আকাশ ছোঁয়া’। ষাঁড় গরুটির ওজন ২২ মণ।

৪০ বছরের পথচলা

জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে মাত্র ২ হাজার ৯শ টাকা দিয়ে একটি বাছুর কিনে লালন-পালন শুরু করেন লোকমান শেখ। সেই বাছুর ১৭ বার বাচ্চা প্রসব করে। তারই একটি বাছুর থেকে খামারে গরুর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, যা তার ভাগ্যের চাকা খুলে দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাফল্যের গল্প

লোকমান শেখ জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১ কোটি টাকার গরু বিক্রি করেছেন। সেই টাকা দিয়েই তিনি করেছেন বাড়ি, জমি ও ব্যাংক ব্যালেন্স। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে চিত্র অভিনেতা ডিপজলের ছেলে এসেও এর আগে আমার এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে গেছেন।’

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন

খামারি লোকমান শেখ আরও বলেন, ‘আমি গরুগুলোকে প্রায় নিজের বাড়ির খড়, গমের ছাল, ভুট্টা, কুড়া ও ঘাস খাইয়ে বড় করেছি। অধিকাংশই আমার জমিতেই চাষ করা। কোনো মোটা-তাজাকরণ ওষুধ খাওয়াইনি। আমার গরু যদি কারোর কেনার ইচ্ছা থাকে তাহলে সরাসরি আমার বাড়িতে এসে দেখেশুনে কিনতে পারবেন।’

স্ত্রীর ভূমিকা

লোকমান শেখের স্ত্রী রাহেলা খাতুন বলেন, ‘একটা বাছুর কিনেছিলাম আমি। ওই বাছুর বড় হওয়ার পর প্রত্যেক বছর বাচ্চা দিত। একটা গরু থেকে আমি অনেক গরু বানিয়েছি। চল্লিশ বছর ধরে গরু লালন-পালন করছি আমি। এই গরু দিয়েই আমি তিনটা ঘর করেছি, ব্যাংক ব্যালেন্স করেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলায় কুরবানির প্রস্তুতি

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাজবাড়ী জেলায় ৮ হাজার ৮৭২ জন খামারির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার গবাদিপশু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় কুরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ২৮৪টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১৮ হাজার ৮২৭টি।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, ‘খামারিরা বড় গরু বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চান। তারা বড় গরুর বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামকরণ করে লালন-পালন করে থাকেন।’ কুরবানির পশুর যত্নে নিয়মিত খামারিদের পরামর্শ প্রদান ও খামার পরিদর্শন করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।