বিশালদেহের ‘বাহুবলী’ ষাঁড়টির দাম কত? নড়াইলের খামারে চমক
বিশালদেহের ‘বাহুবলী’ ষাঁড়টির দাম কত? নড়াইলে চমক

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ায় অবস্থিত ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামের একটি খামারে দেখা মিলেছে বিশালাকার এক ষাঁড়ের। সাদা-কালো রঙের এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘বাহুবলী’। খামারি রিপন মিয়া জানিয়েছেন, শখ করেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

বাহুবলীর শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য

বাহুবলীর ওজন প্রায় ২৮ মণ (১ হাজার ১০০ কেজি), দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। প্রতিদিন গোয়ালঘর থেকে বের করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের সহায়তা লাগে। এ কারণে আগে থেকেই লোক জোগাড় করে রাখতে হয়। ষাঁড়টি সাধারণত শান্ত স্বভাবের হলেও নতুন কাউকে দেখলে একটু ক্ষেপে যায়।

খামার ও ক্রয় ইতিহাস

খামারটির যাত্রা শুরু ২০১৮ সালে। রিপন মিয়ার দুই সন্তানের নামানুসারে এর নাম ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ রাখা হয়। প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট থেকে বাহুবলীকে কেনা হয়। তখন তার ওজন ছিল ২০০ কেজি। স্নেহ, যত্ন ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সে বেড়ে উঠেছে। প্রতিদিন তার পেছনে খরচ হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্রির পরিকল্পনা ও দাম

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের এই ষাঁড়টিকে বিক্রির উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। রিপন মিয়া জানান, বর্তমানে বাহুবলীর দাঁত দুটি। তিনি ১০ লাখ টাকায় এটি বিক্রি করতে চান। বিশেষ করে তিনি চান, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর বিশ্বাস যেন নির্ধারিত বাজারমূল্যে এটি কেনেন। এ ব্যাপারে তিনি এমপির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাহুবলীকে দেখতে খামারে ভিড় করেন। কেউ মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন, আবার কেউ অবাক দৃষ্টিতে তার বিশাল দেহ দেখেন। নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক গরু দেখেছি, পালনও করেছি। তবে এত বড় গরু আগে কখনো দেখিনি। গরুটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই বড় ও শান্ত।’ মশিউর রহমান নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমরা অনেক দূর থেকে দেখতে এসেছি। আসলেই খুব বড় গরু। আমি এত বড় গরু আগে দেখিনি।’

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতামত

নড়াইলের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বাহুবলীকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি, খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আরও আগ্রহী হন। খামারটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে বলেও জেনেছি।’