বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। রবিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভাগীয় পরিচালক জিন পেসমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাৎতে অংশ নেয়।
উপস্থিত কর্মকর্তাদের তালিকা
বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব নার্গিস খানম এবং যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আহসান উপস্থিত ছিলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতি ও পরিকল্পনা
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বৈঠকে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এই কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী আরও জানান যে, আগামী চার বছরের মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ড প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে এবং এটি নাগরিক হিসেবে একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি বহন করবে। এই উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া ও সহযোগিতার আশ্বাস
বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে জিন পেসমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুর উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
যৌথ কাজের সম্মতি
বৈঠকে উভয় পক্ষ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির টেকসই বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এই সহযোগিতা সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকটি বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



