গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে উদ্বেগ, ধাপে ধাপে ঈদ ছুটি কার্যকর
পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে গাজীপুরের পোশাক শিল্পাঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার মাধ্যমে ঈদযাত্রার যানজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অনেক শ্রমিক এখনো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের প্রায় ৫ শতাংশ শিল্পকারখানায় শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পাননি, এবং ৯ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস প্রদান করেনি।
শ্রমিকদের আর্থিক সংকট ও উদ্বেগ
সরকারি সাত দিনের ঈদ ছুটি মঙ্গলবার থেকে শুরু হলেও, গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। তবে, বেতন-বোনাস না পাওয়ায় অনেক শ্রমিকের গ্রামে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, "বেতন-বোনাস না পেলে পরিবারের জন্য কিছু নিয়ে যাওয়া কঠিন, এতে খুব খারাপ লাগে।" অন্য একজন শ্রমিক আবদুল করিম যোগ করেন, "আমি পরিবারকে আগেই পাঠিয়েছি, এখন শুধু বেতন পেলেই চলে যাব।"
ধাপে ধাপে ছুটির ব্যবস্থা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ ও যানজট এড়াতে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে এবারও ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল থেকে পর্যায়ক্রমে ছুটি শুরু হয়েছে:
- সোমবার: ৬২টি কারখানা ছুটি দিয়েছে।
- মঙ্গলবার: ৪৪৪টি কারখানা ছুটি দেবে।
- বুধবার: ১,৪১৪টি কারখানা ছুটি দেবে।
- বৃহস্পতিবার: ৮৩৩টি কারখানা ছুটি দেবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, "শ্রমিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং মহাসড়কে চাপ না বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" এতে শ্রমিকরা কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাত্রা করতে পারবেন, যা যানজট হ্রাসে সহায়ক হবে।
কারখানা ও বেতন পরিসংখ্যান
গাজীপুরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আওতায় মোট ২,৮৩৪টি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ২,৭৫৩টিতে পূর্ণ ছুটি এবং ৮১টিতে আংশিক ছুটি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন দাবি করেন, অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে, এবং বাকিগুলো আগামী দু-দিনের মধ্যে দেবে। তবে, শ্রমিক রুমানা আক্তারের মতো অনেকেই একযোগে ছুটির পরিবর্তে ধাপে ধাপে ছুটিকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এটি যাত্রাপথের ভোগান্তি কমায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। উপকমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানান, প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং মহাসড়কে বিকল যানবাহন দ্রুত সরাতে নয়টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সর্বোপরি, গাজীপুরের পোশাক শ্রমিকদের জন্য ঈদ আনন্দময় করতে আর্থিক দায়িত্বপালন এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ—উভয় দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



