রাজশাহীতে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ তরুণ–তরুণীদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী একটি চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী এই মেলায় অংশ নিয়েছে ২৭টি প্রতিষ্ঠান।
মেলার আয়োজন ও অংশগ্রহণ
পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) এ মেলার আয়োজন করে। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ছিল দক্ষ কর্মীর চাহিদা। কোথাও টাইলস ও মোজাইক মিস্ত্রি, কোথাও ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, ওয়েল্ডিং শ্রমিক, সেলসম্যান কিংবা কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের জন্য আবেদন নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া
সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের প্রতিনিধি টিপু সুলতান বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান ও কম্পিউটার অপারেটরসহ কয়েকটি পদ খালি আছে। যোগ্য প্রার্থীদের সিভি যাচাই–বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নূর এন্টারপ্রাইজের মালিক মনিরুজ্জামান রিপন জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে টাইলস, মোজাইক ও মার্বেল মিস্ত্রির প্রয়োজন। মেলা থেকেই তিনি খায়রুজ্জামান নামের একজনকে চাকরিতে নেন। এ ধরনের আয়োজনে তাঁরা যেমন দক্ষ জনশক্তি পাচ্ছেন, তেমনি অনেকে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন।
আরিফ থাই অ্যালুমিনিয়ামের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁদেরও দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।
একটি বিউটি পারলারের মালিক সোনিয়া খাতুন টুম্পা বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিনজন কাজ করেন। আরও দুজন প্রয়োজন। শিক্ষানবিশ হলেও প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে নেওয়া হবে। মেলা থেকেই তিনি সুফিয়া আক্তার নামের একজনকে চাকরির জন্য বাছাই করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মতিউর রহমান ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। সভাপতিত্ব করেন আইডিএফের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যাপক মো. শহীদুল আমিন চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য
স্বাগত বক্তব্যে আইডিএফের সমন্বয়কারী একরাম হোসেন বলেন, গুরু–শিষ্যভিত্তিক ছয় মাস মেয়াদি শিক্ষানবিশ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিউটি পারলার, টেইলরিং, ওয়েল্ডিং, মোবাইল সার্ভিসিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও আইটি সাপোর্টসহ ২০টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৪৯ গুরুর অধীনে ৮৪৩ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান পেয়েছেন বা উদ্যোক্তা হয়েছেন।
একরাম হোসেন আরও বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবারের ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ–তরুণীদের এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালে শিক্ষানবিশদের ২১ হাজার টাকা ও গুরুকে ৯ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিসাদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



