চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আবারও ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।
পারমাণবিক সরঞ্জাম উদ্ধারে কমান্ডো অভিযান
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য একটি বড় পরিকল্পনা হলো— ইরানের ভূগর্ভস্থ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা পারমাণবিক সরঞ্জাম উদ্ধারের জন্য সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে কমান্ডো অভিযান চালানো। তবে সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ ধরনের অপারেশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কমান্ডোদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাজার হাজার সহায়ক সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং ইরানি স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিকল্প পরিকল্পনা: খার্গ দ্বীপ দখল
আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করা। এছাড়া ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আরও তীব্র ও ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলের লক্ষ্য
ইসরায়েলি নেতৃত্ব আগেই স্পষ্ট করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে তারা ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করতে চায়, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নির্মূল করতে চায় এবং ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে চায়। কিন্তু গত মাসের যুদ্ধবিরতির কারণে তাদের এসব লক্ষ্য এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল



