ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির লেবাননে অবৈধ বসতি স্থাপন এবং গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেরুজালেমে পূর্ব জেরুজালেম দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
বেন-গভিরের বক্তব্য
বেন-গভির বলেন, ‘গাজা থেকে অভিবাসন উৎসাহিত করা, জুদিয়া ও সামারিয়া (পশ্চিম তীর) থেকে অভিবাসন উৎসাহিত করা এবং লেবাননে বসতি স্থাপনের আরও পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। যারা আমাদের হত্যা করতে উঠেপড়ে লাগবে, তাদের সবাইকে নির্মূল করতে আমরা ভয় পাব না।’
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল সেখানে প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫৭ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৪৮৬ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতিও নিয়মিত লঙ্ঘন করছে ইসরাইল। ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এসব হামলায় ২ হাজার ৮৯৬ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৮২৪ জন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কঠোরতা
ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন বেন-গভির। তিনি মার্চ মাসে পাস হওয়া একটি আইনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি কারাগারগুলো এখন সত্যিকারের কারাগারে পরিণত হয়েছে। কোনো জ্যাম বা চকলেট নেই, কোনো একাডেমিক পড়াশোনা নেই, অর্থ জমা রাখার সুযোগ নেই, টেলিভিশন বা রেডিওও নেই। তাদের শুধু ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া হচ্ছে।’
মৃত্যুদণ্ড আইন
গত ৩০ মার্চ ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট ৬২-৪৮ ভোটে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইন পাশ করে। ভোটাভুটিতে একজন সদস্য বিরত ছিলেন। ডানপন্থি দলগুলোর মধ্যে তখন উল্লাস দেখা যায়। পরে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি ইসরাইলকে অবিলম্বে ওই আইন বাতিলের আহ্বান জানায়। আইন অনুযায়ী, যেসব ফিলিস্তিনি বন্দির বিরুদ্ধে ইসরাইলি নাগরিক হত্যার হামলা চালানো বা পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে, তাদের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া যাবে। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক আবেদন ছাড়াই আদালত মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবে এবং সর্বসম্মত বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না; সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই দণ্ড অনুমোদন করা যাবে।
বন্দি সংখ্যা ও অভিযোগ
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে ৯ হাজার ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। তারা নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার শিকার হচ্ছেন এবং এসব কারণে বহু বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।



