অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নসংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটির দ্বিতীয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই সভা হয়।
পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও বাস্তবভিত্তিক কাঠামো তৈরির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নতুন পরিকল্পনা কাঠামোতে চারটি বড় সংস্কার হবে বলে জানান তিনি।
চারটি সংস্কার
সংস্কারগুলো হলো:
- প্রকল্প নির্বাচন বা ‘প্রোগ্রামিং’ প্রক্রিয়াকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে জনরায়ের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য থাকে।
- নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গবেষক, শিক্ষক ও নাগরিকেরা প্রকল্পের বাস্তব চিত্র যাচাই করতে পারেন।
- পুরো প্রক্রিয়াকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করা হবে।
অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নসংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অতীতের ব্যর্থতা
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অতীতে দেশের অধিকাংশ পরিকল্পনা গ্রহণের পরদিন থেকেই ‘মৃত দলিল’ হয়ে যেত। ওই সব পরিকল্পনার লক্ষ্য ও কৌশল বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হতো না।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অতীতে স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন, অযৌক্তিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, আগের পরিকল্পনা পদ্ধতিতে কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল প্রকট। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, একাধিকবার সংশোধন, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং ‘জুন সিনড্রোম’-এর মতো প্রবণতা পরিকল্পনা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছিল।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
উপদেষ্টা আরও জানান, নতুন অর্থনৈতিক কৌশলে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট কৌশল এবং পরিমাপযোগ্য সূচক (ইন্ডিকেটর) নির্ধারণ করা হচ্ছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতে, অতীতে পরিকল্পনা কমিশন অনেক ক্ষেত্রে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে কাজ করলেও এখন সেটিকে একটি কার্যকর নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোতে সামষ্টিক ও খাতভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা প্রক্রিয়া
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দাবি করেন, এই পরিকল্পনা প্রণয়নপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক। অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, বার্ষিক পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা সংগ্রহ করে তা সমন্বিত করা হয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতে, জনগণের ভোট ও নির্বাচনী ইশতেহার থেকে প্রাপ্ত অগ্রাধিকারগুলোই এখন সরকারের অর্থনৈতিক এজেন্ডায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।



