প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ চৌধুরী তিতুমীর জানিয়েছেন, স্বজনপ্রীতি বা কারও প্রভাবে তড়িঘড়ি করে আর কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা স্বীকার
অর্থ উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে অনেকের পকেট ভারী করতে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হতো। সেসব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ছিল অনেকটা ‘ঠুঁটো জগন্নাথের’ মতো। অকারণে বারবার প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। তবে এখন থেকে প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘বালিশকাণ্ডের’ মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না
অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ আল মাহমুদ চৌধুরী তিতুমীর বলেন, যথাযথ তদারকির অভাবেই অতীতে ‘বালিশকাণ্ডের’ মতো বিতর্কিত ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। এসব অপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়েই দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের চাপে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্পের বিষয়ে কঠোর নজরদারি করবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আরও জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে নীতি-কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে যাবতীয় তথ্য নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য একটি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে, যা প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



