তেল সংকটে রাইডশেয়ার চালকের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
দুই দিন ধরে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য ঘুরছেন মোটরসাইকেল রাইডশেয়ার চালক ইমরান হোসেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোনো যাত্রী পরিবহন করতে পারেননি, যা তাঁর আয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, তাঁর সামনে তিন শতাধিক মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।
চালকদের মারাত্মক ভোগান্তি
ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, 'দুই দিন ধরে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছি। এখনো তেল নিতে পারিনি। আজও তেল পাব কি না, জানি না। আল্লাহ ভাগ্য রাখলে হয়তো পাব। কিন্তু ভোগান্তি অনেক। এই দুই দিন অফ ডে যাচ্ছে। একটা ভাড়াও নিতে পারিনি।' তিনি জানান, গতকাল রামপুরার হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে আট ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি, এবং পরবর্তীতে মহাখালী, তেজগাঁও, আসাদগেট এলাকায় ১০টির বেশি স্টেশন ঘুরে ব্যর্থ হন।
লাইনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়া
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য লাইনের দৈর্ঘ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গত দুই সপ্তাহে মোটরসাইকেলের লাইন সর্বোচ্চ শহীদবাগের বিএনএন হসপিটাল পর্যন্ত দেখা গেলেও আজ তা শান্তিবাগের গলির মাঝামাঝি পৌঁছে গেছে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা আগে সর্বোচ্চ ১১৫টি ছিল, যা আজ বেড়ে ২২৩টি হয়েছে। একইভাবে, আরামবাগের মেসার্স এইচকে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন আজ ফকিরাপুল ঘুরে রাজারবাগ পুলিশ বক্স পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে, এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২৩৭ থেকে বেড়ে ৩৯৪টি হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা ও পুলিশ মোতায়েন
তেলের অভাবে সৃষ্ট দীর্ঘ লাইনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আজ বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মতিঝিলের কারিম ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুস সালাম জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনবার পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে চালকদের এবং লাইন অতিক্রম নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, 'এসব এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পুলিশ সদস্যরা আছেন। তারা শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছেন।'
তেল সরবরাহে ঘাটতি
আব্দুস সালাম আরও উল্লেখ করেন যে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত তেল তারা পাচ্ছেন না। আগে যেখানে ১৩ হাজার লিটার অকটেন পেতেন, সেখানে এখন সাড়ে ৪ হাজার লিটার পাচ্ছেন, যা কয়েক ঘণ্টার ভেতর শেষ হয়ে যায়। এই ঘাটতির কারণে চালকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ সুলতান, যিনি গতকাল ১১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পাননি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বিরতি চললেও বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সংকট কমার পরিবর্তে বেড়েছে বলে মনে করেন অনেক চালক। এই পরিস্থিতিতে লাখ লাখ বাইকার ও চালকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে, এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।



