জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত ক্রয়ে চ্যালেঞ্জ: মন্ত্রণালয়
জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক, অতিরিক্ত ক্রয়ে চ্যালেঞ্জ

জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত ক্রয়ে চ্যালেঞ্জ: মন্ত্রণালয়

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল ক্রয় করছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে জানান মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

সরবরাহের বর্তমান অবস্থা

মনির হোসেন চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে ঠিক একই পরিমাণ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু জনমনে বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের শঙ্কার কারণে ভোক্তারা অতিরিক্ত তেল ক্রয় করছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে জানান, ঢাকার বিজয় সরণির একটি পেট্রোল পাম্পে আগে দৈনিক ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হলেও মঙ্গলবার সেখানে ৮০ হাজার লিটারের বেশি তেল বিতরণ করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে।

অভিযান ও মজুত পরিস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও ফার্নেস তেল অন্তর্ভুক্ত। মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী আরও বিস্তারিত তথ্য দেন যে, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৯ হাজার ১১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানের ফলে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, অকটেন ও পেট্রলের ক্ষেত্রে অন্তত আগামী দুই মাস কোনো সমস্যা হবে না। পাশাপাশি ডিজেলের ক্ষেত্রেও এপ্রিল ও মে মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় জনগণকে অনুরোধ করেছে যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করে স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখতে, যাতে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও উন্নত হতে পারে।