কাঁচা তেল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন কার্যক্রম কাঁচা তেলের ঘাটতির কারণে সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুইটি প্রধান ইউনিটের উৎপাদন মঙ্গলবার দুপুরে বন্ধ হয়ে যায়, যদিও তৃতীয় ইউনিটটি আংশিকভাবে চালু রয়েছে।
সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় তৈরি হয়েছে সংকট
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মোনির হোসেন চৌধুরী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে রিফাইনারির কোনো কর্মকর্তাই সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্রমতে, এই সংকটের মূল কারণ হলো কাঁচা তেল সরবরাহের অভাব, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আরও তীব্র হয়েছে।
সৌদি আরবে একটি কাঁচা তেলের জাহাজ আটকে থাকায় চলতি মাসের শুরু থেকেই বিদ্যমান মজুদ কমতে শুরু করে। এপ্রিলের ৫ তারিখ থেকে রিফাইনারিটি বিকল্প ব্যবস্থায় চলছিল, কিন্তু এখন তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ও বর্তমান অবস্থা
ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত দৈনিক প্রায় ৪,৫০০ মেট্রিক টন কাঁচা তেল প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। এটি থেকে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও ফার্নেস তেলসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদিত হয়। তবে গত এক মাস ধরে কাঁচা তেলের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ইতিমধ্যেই দৈনিক ৩,৫০০ টনে নেমে এসেছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান সংক্রান্ত যুদ্ধজনিত অস্থিরতার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কাঁচা তেল আমদানি স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী জাহাজটি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে।
মজুদ ক্ষমতা ও জ্বালানি সরবরাহের অবস্থা
রিফাইনারিটির কাঁচা তেল সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রায় ১,৫০,০০০ মেট্রিক টন এবং পরিশোধিত জ্বালানি সংরক্ষণ করতে পারে সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ টন পর্যন্ত। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও দেশে জ্বালানির তাত্ক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।
সরকার সংঘাত শুরুর পর থেকেই উচ্চমূল্যে ক্রয় করে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।



