এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তবে সাশ্রয়ের উপর জোর
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে দেশে জ্বালানি তেলের কোনও সংকট হবে না। তবে তিনি প্রত্যেক নাগরিকের এই সময়ে এসে জ্বালানি সাশ্রয় করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মজুত করা তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল; যার পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন। এছাড়া কেরোসিন রয়েছে ৯ হাজার ৩৭৮ টন, অকটেন ৯ হাজার ২১ টন এবং পেট্রোল ১২ হাজার ১৯৪ টন।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে ৫৮ হাজার ৭৩৬ টন। পাশাপাশি বিমান পরিবহনে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ টন এবং নৌপরিবহনের জন্য মেরিন ফুয়েল মজুদ রয়েছে ১ হাজার ১৫৩ টন।
চাহিদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে বছরে ডিজেলের চাহিদা ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অকটেন এবং পেট্রোল মাসে দরকার হয় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। তিনি উল্লেখ করেন, পেট্রোল এবং অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনও সংকট নেই। কোনও সংকট নেই ডিজেলের ক্ষেত্রেও। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ আছি।
তিনি আরও বলেন, প্যানিক বায়িং এখনও বন্ধ হয়নি, যার প্রভাব পড়ছে পেট্রোল পাম্পে। মজুতের প্রবণতাও আছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে যথা নিয়মে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেল যথাযথ পরিমাণে আছে।
সরকারের অবস্থান ও জনগণের ভূমিকা
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। তাই জনগণের কথা চিন্তা করেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদিও সংকট নেই, তবুও নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয় করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা না হয়।
জ্বালানি বিভাগের এই ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে অতিরিক্ত মজুত বা প্যানিক বায়িং এড়াতে সচেতনতা জরুরি।



