ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিড ত্রুটি: ৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন হ্রাস
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিড ত্রুটি, ৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন কম

আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিড ত্রুটিতে ৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন কম

জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির দুটি বৃহৎ ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল পৌনে ৩টায় হঠাৎ বিকট শব্দের সঙ্গে ইউনিট দুটি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে জাতীয় গ্রিড লাইনে প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হ্রাস পায়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব

এই ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নেমে আসে মাত্র ২২৫ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির সচল ৫টি ইউনিটের মধ্যে বৃহৎ ৩টি ইউনিটে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল।

শুক্রবার বিকেল পৌনে ৩টায় বিকট শব্দে ৪০০ মেগাওয়াট (নর্থ) ও ৪০০ মেগাওয়াট (ইস্ট) পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে জাতীয় গ্রিডে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হ্রাস পায় এবং আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির উৎপাদন নেমে আসে ২২৫ মেগাওয়াটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্যাস সংকটের কারণে অতিরিক্ত বন্ধ ইউনিট

এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ৪০০ মেগাওয়াট (সাউথ) ও ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ইঞ্জিন ইউনিট দুটি দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমানে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কারিগরি বিভাগের ব্যাখ্যা

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ জানান, আশুগঞ্জ-ভুলতা ৪০০ কেভি গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার পর হঠাৎ ট্রিপ করে ৪০০ মেগাওয়াট (নর্থ) ও ৪০০ মেগাওয়াট (ইস্ট) বন্ধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ইউনিট দুটি সচল আছে এবং গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আশুগঞ্জ-ভুলতা ৪০০ কেভি গ্রিড লাইনে ত্রুটিমুক্ত করে রাতের মধ্যে ইউনিট দুটি চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই দুটি ইউনিটে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল, যা ইতিমধ্যেই সীমিত ছিল।

মোট প্রভাব

সর্বমোট, গ্যাস সংকটের কারণে ৪০০ মেগাওয়াট (সাউথ) ও ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ইঞ্জিন ইউনিট দুটি দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকায় এবং নতুন গ্রিড ত্রুটির ফলে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।