যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের আক্রমণাত্মক ধাপ শেষ হলেও দেশটিতে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার (৬ মে) অটো ট্রাভেল সংস্থা এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম পৌঁছেছে ৪.৪৮৩ ডলারে, যা প্রায় ৩.৩১ পাউন্ডের সমতুল্য।
পশ্চিমাঞ্চলে দাম বেশি, দক্ষিণে তুলনামূলক কম
গাড়িনির্ভর পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে জ্বালানির দাম আরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৬.১৩১ ডলার এবং ওয়াশিংটনে ৫.৭০৫ ডলার। পশ্চিম উপকূলের এসব অঙ্গরাজ্যে বড় বন্দর থাকায় পণ্য পরিবহনে ট্রাকের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। ফলে পরিবহণ ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে দাম তুলনামূলক কম। টেক্সাসে প্রতি গ্যালন ৩.৯৮১ ডলার এবং লুইজিয়ানায় ৩.৯২৩ ডলার। এসব এলাকায় তেল শোধনাগার বেশি থাকায় জ্বালানির দাম কম থাকে। একই প্রবণতা দেখা যায় মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতেও।
গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের আগে দাম বাড়ার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ও উষ্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে অনেকেই সড়ক ভ্রমণে বের হন। সাধারণত এই সময় জ্বালানির দাম আরও বাড়ে, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আগেই চাপে থাকা মানুষের খরচ আরও বাড়াতে পারে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে এখনও এটি ২০২২ সালের জুনে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ গড় মূল্য—প্রতি গ্যালন ৫.০১৬ ডলারের নিচেই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের আক্রমণাত্মক ধাপ শেষ হয়েছে। তবে এর মধ্যেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।



