মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি হবে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস
বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ সমুদ্রপথে তেল পরিবহন করা হয়। সংঘাতের কারণে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, যা সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ইতোমধ্যে বছরের শুরু থেকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ৮৬ ডলার হতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৬৯ ডলার। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দাম ১১৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সার ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব
জ্বালানির পাশাপাশি সার বাজারেও বড় চাপ তৈরি হয়েছে। সারের দাম প্রায় ৩১ শতাংশ বাড়তে পারে, যার মধ্যে ইউরিয়ার দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
ধাতু ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
ধাতব বাজারেও চাপ তৈরি হচ্ছে। অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের মতো ধাতুর দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৪২ শতাংশ বাড়তে পারে। ম্যাক্রো অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে প্রায় ৫.১ শতাংশ হতে পারে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। আর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৬ শতাংশ হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা ইন্দর্মিত গিল বলেন, যুদ্ধের প্রভাব ধাপে ধাপে আসে—প্রথমে জ্বালানির দাম বাড়ে, পরে খাদ্যের দাম বাড়ে এবং শেষে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ায়, যা ঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে।



