বিদ্যুৎ সংকটে দেশ: আদানির ইউনিট বন্ধ, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা
বিদ্যুৎ সংকট: আদানির ইউনিট বন্ধ, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা

বিদ্যুৎ সংকটে দেশ: আদানির ইউনিট বন্ধ, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা

দেশে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। কিন্তু, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ এই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই বড় দুঃসংবাদ হিসেবে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে।

আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ: কারণ ও প্রভাব

পিডিবির এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আদানির সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের বিয়ারিং থেকে সতর্ক সংকেত পাওয়া যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হতে তিন থেকে চারদিন সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এই বন্ধের প্রভাব বিদ্যুৎ সরবরাহে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টায় আদানি থেকে এক হাজার ৪৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও, রাত ২টায় তা নেমে আসে ৭৬৪ মেগাওয়াটে। আজ বিকালে তা আরও কমে প্রায় ৭৪৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এই সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। কোথাও কোথাও লোডশেডিং ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যুৎ চাহিদা ও ঘাটতির বর্তমান চিত্র

পিডিবির দেওয়া তথ্যমতে, আজ দিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি বিদ্যুৎ সরবরাহে ছিল। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) থেকে জানানো হয়েছে, আজ বিকালে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল প্রায় দুই হাজার ৪৯৫ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগ তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগের পদক্ষেপ সত্ত্বেও, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ থাকা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে আগামী কয়েকদিন লোডশেডিং বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে, যা বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে। তাই, দ্রুত সমাধানের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।