ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রল পাচার চক্রের দুই সদস্য আটক, ২০০ লিটার জব্দ ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একটি পেট্রল পাচার চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত এই অভিযানে ২০০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। আজ মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান উল হকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই মামলাটি পরিচালনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে গোপনে পেট্রল সংগ্রহ করে প্রতি লিটার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছিল। পুলিশের তথ্য মতে, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তারা প্রতি লিটার পেট্রল-অকটেনের জন্য ২০০ টাকা প্রদান করত।
অভিযুক্তরা ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের মাধ্যমে জারকিনে পেট্রল ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিত। পরে মুঠোফোনে সেই স্থানের তথ্য পেয়ে গভীর রাতে তিন চাকার যানে করে পেট্রল সংগ্রহ করা হতো। সংগ্রহকৃত পেট্রল কালিবাড়ী এলাকার আবদুল খালেক নামের এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হত, যিনি সীমান্ত এলাকার অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালকদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন।
আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয়
আটককৃত দুই ব্যক্তি হলেন:
- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের স্কুলহাট গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে জাহিরুল ইসলাম (৩২)
- হরিণমারী নয়াপাড়া গ্রামের সরিফ উদ্দীনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩০)
তারা উভয়েই আবদুল খালেকের পক্ষে ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রল আনা-নেওয়ার কাজ করতেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তারা এই অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
স্কুলহাট গ্রামের আবদুস সোবহান নামের এক বাসিন্দা জানান, ‘গতকালও আমি বাধ্য হয়ে তাদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে এক লিটার পেট্রল কিনেছি।’ এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেলের এই অবৈধ বাণিজ্য কতটা বিস্তৃত ছিল।
অভিযানের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপ
অভিযানের পর প্রধান সন্দেহভাজন আবদুল খালেক পলাতক রয়েছেন এবং তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জহিরুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা এবং তিন চাকার যানের চালক জাহিরুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়া, জব্দকৃত ২০০ লিটার পেট্রল পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সরকারি মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
এই ঘটনা জ্বালানি তেলের অবৈধ বাণিজ্য ও পাচার রোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও, চক্রের মূল হোতা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।



