জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবিতে রংপুরে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জোরালো দাবিতে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। মঙ্গলবার রংপুরের জেলা প্রশাসক রহুল আমিনের কাছে তিন দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিন দফা দাবি ও স্মারকলিপি প্রদান
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারী রাজের নেতৃত্বে মোটর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছে তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছেন। দাবিগুলো নিম্নরূপ:
- জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুততম সময়ে গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা।
- নৈরাজ্য রোধ করা, যাতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয়।
- সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং পরিবহন খাতে লোকসান এড়াতে মালিক ও যাত্রীদের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আলটিমেটাম ও হুঁশিয়ারি
নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে রংপুর থেকে সব ধরনের বাস-ট্রাকসহ সমস্ত যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প থাকবে না। এই পদক্ষেপ পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারী রাজ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করেছি। আমরা বলেছি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এখন পর্যন্ত গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। ফলে আমাদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। সে কারণে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছি।'
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোটর মালিক সমিতির সভাপতি শরীফুল আলম, সহসভাপতি মোসাহারুল আজম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মাহশিদ ফারহান, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ এই দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই আলটিমেটামের ফলে রংপুরের গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্ভাব্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়।



