বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।
সংসদে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
বৃহস্পতিবার সংসদে শাসক দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের (নরসিংদী-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্থাপিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৮১.০৯ মেগাওয়াট।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫
প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই নীতির আওতায় গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ছাদের সোলার সিস্টেম এবং ভাসমান সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।
বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নীতি ২০২৫ অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সরকারি বিতরণ কোম্পানির অবকাঠামো ব্যবহার করে বা নিজস্ব ব্যবস্থায় বড় ও পাইকারি গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন।
নির্মাণাধীন প্রকল্প
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমানে দেশে ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১,১৭২ মেগাওয়াট। এছাড়া মোট ৬৬৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ১০,০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।



