বাংলাদেশ ব্যাংকের বিইউএফটি (বাংলাদেশ ইউনিফাইড ফরম্যাট ট্রেডিং) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এই হার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫০ শতাংশের চেয়ে কম।
প্রবৃদ্ধির চিত্র
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই হার কিছুটা কমেছে। বিইউএফটি প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ।
সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতা
সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। কিন্তু প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ না হলেও পুরো অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তবে মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের গতি ধরে রাখতে হবে।'
অর্থনীতির অন্যান্য সূচক
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, সেবা খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ
প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, 'প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় সার্বিক অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। তবে সরকার যদি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেয়, তাহলে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতে পারে।'



