ঢাকার কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত আগামী ২১ জুন নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
শুনানি পিছানোর কারণ
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানির দিন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে পৃথকভাবে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবীরা। সালমান এফ রহমানের আইনজীবী সজিবুল ইসলাম আদালতকে জানান, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে অব্যাহতির আবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আনিসুল হকের আইনজীবী সুমন হোসেন বলেন, তার সিনিয়র আইনজীবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুনানিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি, তাই সময় প্রয়োজন।
মামলার বিবরণ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, নিউমার্কেট থানার হত্যা মামলায় জড়িত আসামিরা সদরঘাট ২ নম্বর মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা রাখছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকের সময় আনিসুল হকের কাছ থেকে ১৭ হাজার ৫৯২ মার্কিন ডলার ও ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার জব্দ করা হয়। অন্যদিকে সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ১২ হাজার ৬২৪ মার্কিন ডলার, ৬২০ সুইস ফ্রাঙ্ক, সাড়ে ৮ হাজার দিরহাম, ১৩ লাখ উজবেকিস্তানের সোম, ১১ হাজার ৬৫০ সৌদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড, ১৩২১ ইউরো, ৬২৩০ ভুটানের গুলট্রাম, ৩৩২০ থাই বাথ ও ৫০ হাজার টাকা।
মামলা ও অভিযোগপত্র
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার এসআই মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিএমপির কোতোয়ালি থানার এসআই নুরুজ্জামান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যবসায়িক উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রা নিজের হেফাজতে রাখেন এবং এর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। বর্তমানে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক দুজনই কারাগারে রয়েছেন।



