মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টাকে 'অন্যায় ও চক্রান্তমূলক' বলে আখ্যায়িত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ক্ষোভ
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি নওদাপাড়া এলাকার পাবনাপাড়া মহল্লার অর্পিত সম্পত্তি ঘিরে দখল ও উচ্ছেদ-সংক্রান্ত বিরোধ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অর্পিত সম্পত্তির উচ্ছেদের বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিন সময় দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়াটা একজন মানুষ হিসেবে আমি অত্যন্ত অন্যায় মনে করি।
অতীতের ব্যর্থতা ও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
তিনি জানান, অতীতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভূমিদস্যুদের সমালোচনা
সাবেক সরকারের আমলে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের কঠোর সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় লিটন, শাহু ও সাচ্চুর মতো ভূমিদস্যুরা জনগণের সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখল করার কোনো সুযোগ নেই।
আইনি লড়াই জোরদারের আহ্বান
ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিরোধে আইনি লড়াই জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন।
খাসজমি বন্দোবস্তের উদ্যোগ
খাসজমি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা খাসজমি যাতে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়- সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা
এদিকে এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনশন ও সমাধান
এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় ভূমিমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পরে মন্ত্রী নিজে তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।



