প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সোমবার সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাজেটটিকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই বাজেট সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের ওপর চাপ কমাতে এবং প্রশাসনের হাতে আসা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে।
জীবনবান্ধব বাজেটের বৈশিষ্ট্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ নাম দিতে চাই। আমাদের সর্বোচ্চ জ্ঞান, বিবেক ও বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে আমরা একটি বাজেট উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি, যার মাধ্যমে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি ও আরাম পেতে পারেন।” তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী বছরের মতো এবার বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়েনি।
কর প্রত্যাহার ও মূল্য স্থিতিশীলতা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের ভোক্তাবান্ধব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ৬১টি প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমতে, এবার আমরা এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখিনি। প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর প্রত্যাহারের মাধ্যমে আমরা জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্বের অন্তত কিছু অংশ পালন করতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি।”
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান তার সরকার ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে অর্থনৈতিক অবস্থা পেয়েছিল তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি ভাঙা অর্থনীতি পেয়েছি। দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, এবং মূল্যস্ফীতি এমন স্তরে পৌঁছেছিল যা সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের জীবনে অনুভব করত।
পুঁজিবাজার ও বৈদেশিক রিজার্ভ
প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের দুরবস্থার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয় হারিয়েছেন, কেউ কেউ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। তিনি বলেন, “পুঁজিবাজার, অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে মানুষ সবকিছু হারিয়ে ফেলেছিল।” তিনি আরও বলেন, অতীতের সরকারের নেওয়া অনেক বৃহৎ প্রকল্প অপ্রয়োজনীয় ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা এখন দেশের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অস্বীকার করতে চায় না, বরং রাজনৈতিক অঙ্গীকার, কার্যকর নীতি ও জনসমর্থনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের পাশে নিয়ে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলি সফলভাবে মোকাবিলা করতে চাই।”
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট অধিবেশন নিজেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রতিফলন, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা দেশ ও জনগণের সমস্যা নিয়ে সভ্যপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে পারছেন। তিনি কৃতিত্ব দেন দেশের ২০ কোটি মানুষকে, যাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় এই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের বক্তৃতার সময় সরকারি দলের সদস্যরা বারবার টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।



