বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বর্ণপ্রতীকী জুয়েলারি শিল্পকে সঠিক নীতিসহায়তা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের শিল্প খাতে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি বলেন, এ খাত থেকে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।
বাজেট পরামর্শক কমিটির বৈঠকে বক্তব্য
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পুরো বৈঠক সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান।
স্বর্ণশিল্পকে সাদা অর্থনীতির আওতায় আনার আশ্বাস
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই খাতের বড় অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে। সরকার এটিকে দৃশ্যমান ও নিয়মতান্ত্রিক অর্থনৈতিক খাতে রূপ দিতে কাজ করবে। তিনি আশ্বাস দেন যে স্বর্ণশিল্প বা জুয়েলারি শিল্পকে সাদা অর্থনীতির আওতায় আনা হবে।
অর্থনীতি চাঙা করার প্রয়োজনীয়তা
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করা এখন শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যই নয়, সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থেও জরুরি। তবে অনেক শিল্প খাত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি আছে উচ্চ সুদহার ও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা। এখন নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বিদ্যমান ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর গুরুত্ব
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। কর দেওয়ার বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায় না, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব, যা কর রাজস্বের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
জাতীয় স্বার্থে প্রস্তাবনা দেওয়ার আহ্বান
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবনা দেওয়ার সময় শুধু নিজ নিজ খাতের সুবিধার কথা নয়, জাতীয় স্বার্থের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। খাতভিত্তিক স্বস্তি ও জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি—দুই বিষয়কে সমন্বয় করেই প্রস্তাব দিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দক্ষ হাতে রয়েছে। সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে, যার ইতিবাচক ফল ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।



