বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ২০ হাজার ১৫২ কোটি টাকার অবৈধ জাল, জাটকা জব্দ ও জালের কারখানা ধ্বংস করেছে। বাহিনীটি ২৪৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সাফল্য
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। ফলে প্রায় ১২০ কোটি ৯১ লাখ কেজি মাছ রক্ষা পেয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দ্বিতীয়বারের মতো ‘মৎস্য পদক (রৌপ্য)’ অর্জন করেছে।
৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন
এমন সাফল্যের মধ্য দিয়ে ২৮ এপ্রিল নিজেদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাহিনীর সদর দপ্তরে এই অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
পদক ও সম্মাননা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক, অসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ১৪ জনকে পদক দেওয়া হবে। এর মধ্যে চারজনকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক, চারজনকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড (সেবা) পদক, তিনজনকে প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড পদক ও তিনজনকে প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড (সেবা) পদক দেওয়া হবে।
কোস্টগার্ডের কার্যক্রম
১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বাহিনীটি চারটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে ৬৩টি স্টেশন, ২৮টি জাহাজ ও ১৩৮টি দ্রুতগামী নৌকার মাধ্যমে দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসহ ২১টি জেলার উপকূল ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর নিরাপত্তা, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানব পাচার রোধ, দুর্যোগকালে উদ্ধার ও সহায়তা এবং দস্যুতা দমনে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অভিযানের পরিসংখ্যান
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত এক বছরে ৫৫ হাজার ৮৪১টি অভিযান পরিচালনা করেছে কোস্টগার্ড। এসব অভিযানে ২৪৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ হাজার ৮০২টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৫৯০ জনকে। এ ছাড়া ২৯৫ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ এবং ৬৭০ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চোরাচালান ও পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে ২১৫ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য, ২৭৬টি ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে চার কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৬২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে তারা।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
কোস্টগার্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের সব বন্দর ও বহির্নোঙর এলাকায় কোস্টগার্ডের সক্রিয় উপস্থিতি বন্দর কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রেটিংও উন্নত করেছে। বহির্নোঙরে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) থেকে প্রথমবারের মতো একমাত্র সংস্থা হিসেবে ‘লেটার অব কমেনডেশন’ পেয়েছে কোস্টগার্ড। এ ছাড়া আধুনিকতা, পেশাদারত্ব ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি হিসেবে বাহিনীর প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘অগ্রযাত্রা’ আইএসও সনদ অর্জন করেছে।
বিশেষ অভিযান ও সেবা
সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে ডাকাত নির্মূলে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি আলাদা অভিযান পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও চোরাচালানের বিরুদ্ধেও অবিরাম অভিযান চলছে। এ ছাড়া কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এর মাধ্যমে উপকূলবাসী ও পর্যটকদের নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে।



