অবশেষে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আজ সোমবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষের পর আজ এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, দেশের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় কোম্পানি দুটি ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ, আগামীকাল থেকে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে কোনো ফ্লোর প্রাইস থাকছে না।
নতুন কমিশনের পদক্ষেপ
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই দিনই সংবাদ সম্মেলনে শেয়ারবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এমনকি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ–ও বলেন, তাঁদের কমিশন ভবিষ্যতে বাজারে কখনো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করবে না। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শেয়ারবাজারের অবশিষ্ট দুই কোম্পানি থেকেও ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়।
ফ্লোর প্রাইসের ইতিহাস
জানা যায়, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের ২৮ জুলাই শেয়ারবাজারে টানা পতন ঠেকাতে ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। যাতে শেয়ারের দাম বেঁধে দেওয়া ওই সীমার নিচে নামতে না পারে। বাজারে সূচকের পতন ঠেকাতে কৃত্রিম ওই ব্যবস্থা নেয় বিএসইসির তৎকালীন কমিশন। এর আগে ২০২০ সালের মার্চেও একবার ফ্লোর প্রাইস বসানো হয়েছিল বাজারে।
ধাপে ধাপে প্রত্যাহার
সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাইয়ে যে ফ্লোর প্রাইস বসানো হয়েছিল, তা প্রত্যাহার শুরু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে। ধাপে ধাপে এই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন কমিশন। তারই অংশ হিসেবে শুরুতে সূচকে প্রভাব ফেলে, এ রকম ৩৫টি কোম্পানি ছাড়া বাকি সব শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তুলে নেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে ৩৫ কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। বাকি ছিল শুধু দুটির। অবশেষে সেই দুটি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসও আগামীকাল থেকে উঠে যাচ্ছে। সেই হিসেবে সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাইয়ে শেয়ারবাজারে যে ফ্লোর প্রাইস বসানো হয়েছিল, প্রায় চার বছর পর এসে বাজার পুরোপুরি সেই ফ্লোর প্রাইসমুক্ত হতে যাচ্ছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকেই দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের বিষয়টি বাজারে আলোচনায় ছিল। শেয়ারবাজারে আজও এই দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসে আটকে ছিল। এদিন বেক্সিমকোর প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১১০ টাকা। আর ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।



