গাজীপুরের শ্রীপুরে কারখানার ব্যবসার দ্বন্দ্বে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ গ্রামের আরবেলা ফ্যাশন লিমিটেড নামক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের তালিকা
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মাহাবুব (৪৮), আলাল (৪২), জুনায়েত (৪২), দেলোয়ার মোল্লা (৪০), শিপু (২৯), রুহুল আমীন মণ্ডল (৫০), অপর পক্ষের বাবু (৩০), মাসুম (৩০), নাহিদ (৩৪) ও নিলয় (১৭)।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. আক্তারুজ্জামান শামীম স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আরবেলা ফ্যাশন কারখানার গেটের বিপরীতে একটি মার্কেটের সামনে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় কৃষক দলের নেতা মো. মাসুম আহমেদ নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুপক্ষের ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে শিল্প ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
শামীমের বক্তব্য
বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. আক্তারুজ্জামান শামীম জানান, শনিবার প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাবেন। উপজেলা বিএনপির নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রিশাল যাত্রা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আরবেলা ফ্যাক্টরির গাড়ি পরিচালনা ও ব্যবসা করার জন্য তাদের পক্ষে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যবসার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় মাসুম এসে বলে গাড়ির ব্যবসা তার। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে অতর্কিতভাবে মাসুম তার লোকদের নিয়ে হামলা করে তার নেতাকর্মীদের আহত করে। গুরুতর আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। এ বিষয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মাসুমের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে বরমী ৬নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সদস্য মো. মাসুম আহমেদ জানান, তিনি আগে থেকেই আরবেলা ফ্যাশনের শ্রমিক পরিবহণের বাসের ব্যবসা করে আসছেন। বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব শামীম তার লোকজন নিয়ে শ্রমিক পরিবহণের বাসগুলোকে হুমকি ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তারা প্রতিবাদ করলে তাদের লোকদের ওপর হামলা করা হয়। এ হামলায় তার পক্ষের চারজন আহত হন। এ সময় শ্রমিক পরিবহণের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহিনূর আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একপক্ষ অভিযোগ দিয়েছে, অপরপক্ষের অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি।



