ডলার কেনা, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে স্বস্তির বার্তা অর্থনীতিতে
ডলার কেনা, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে স্বস্তির বার্তা

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। একইসঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ডলার ক্রয়, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স—এই তিনটি সূচক একসঙ্গে অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

ডলার ক্রয়ের পরিমাণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ মে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। ফলে মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ মিলিয়ন ডলারে। চলতি অর্থবছর ২০২৬-২৭ (জুলাই থেকে শুরু) শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৫৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্রয় কার্যক্রম ডলার বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা রোধ এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো বাজার থেকে ডলার প্রত্যাহার করে রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিশেষ করে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিজার্ভের অবস্থান

এদিকে, ৫ মে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থূল (গ্রস) হিসাবে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। গ্রস ও বিপিএম৬ হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, উভয় সূচকেই রিজার্ভের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেমিট্যান্স প্রবাহ

রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। চলতি মাসের প্রথম চার দিনে (১-৪ মে) দেশে এসেছে ৪৫৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের (৩১২ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। শুধু ৪ মে একদিনেই এসেছে ১৪১ মিলিয়ন ডলার।

সামগ্রিক অর্থবছরের চিত্রও ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৯ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের (২৪ হাজার ৮৪৯ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে জোরদার নজরদারি এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের কারণে প্রবাসীরা এখন আরও বেশি অর্থ আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে পাঠাচ্ছেন। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভ পুনর্গঠন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি—এই তিন ধারার প্রবণতা দেশের বৈদেশিক খাতকে কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় ও বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকা জরুরি।