প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং আওতায় আনতে ব্র্যাক ব্যাংকের ভূমিকা
এসএমইর জন্য বিশেষ তহবিলের সুবিধা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে ব্র্যাক ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ শুরু থেকেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। গত ২৫ বছরের যাত্রায় ব্র্যাক ব্যাংক দেশজুড়ে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি লোকেশনে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত রাখছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছে। তারেক রেফাত উল্লাহ খানের মতে, সরকারি তহবিল ব্যবহারে ব্র্যাক ব্যাংকই যোগ্যতম অংশীদার।
জামানতবিহীন ঋণে ব্র্যাক ব্যাংকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
দেশের ৬০ শতাংশ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনতে জামানতবিহীন ঋণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে জানান তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংক ২০ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাকে ২ লাখ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে, যার ৮৫ শতাংশই দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের জামানত ছাড়া। এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হয় এবং প্রোডাক্ট নিয়মিত উদ্ভাবন করতে হয়। দেশব্যাপী ৩১৫টি শাখা-উপশাখা ও ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিসের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে ব্র্যাক ব্যাংক এ কাজে অনেক এগিয়ে আছে।
অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণবৈষম্য দূর করতে কৌশল
অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সাধারণত ঋণবঞ্চিত হন। এই বৈষম্য দূর করতে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ কৌশল রয়েছে। তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, এই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে লেনদেনের ইতিহাস না থাকাটা বড় বাধা। এটি না থাকলে ব্যাংকের পক্ষে ঋণঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। এই বাধা দূর করতে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক। উদ্যোক্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’ অ্যাপে সহজে লেনদেন করতে পারেন।
সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও সক্ষমতা
গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্র্যাক ব্যাংকের বড় চ্যালেঞ্জ কী কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, রিফাইন্যান্স স্কিমের মাধ্যমে স্বল্প সুদে অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘আর্থিক সাক্ষরতা’ দিতে পেরেছে ব্র্যাক ব্যাংক। সুদৃঢ় কাঠামো থাকায় কটেজ ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে দেশে ব্র্যাক ব্যাংকই সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা রাখে।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা
নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণের ক্ষেত্রে নতুন অর্থবছরে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রেফাত উল্লাহ খান জানান, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা ‘তারা’ চালু আছে। তাঁদের দেওয়া ঋণের ৯৬ শতাংশই সম্পূর্ণ জামানতবিহীন। একই সঙ্গে ব্যবসার বয়স মাত্র এক বছর হলেই একজন নারী উদ্যোক্তা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। নারী উদ্যোক্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘উদ্যোক্তা ১০১’ এবং পণ্য বিপণনের জন্য ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’ রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সেবা আরও বাড়বে।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্র্যাক ব্যাংকের লক্ষ্য
নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য অর্জনে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে কতটুকু অবদান রাখতে চায়—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ২০ লাখ উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। গত এক বছরে ৩ হাজার ৬০০ নারীকে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করা হয়েছে এবং দেড় লাখ নারী উদ্যোক্তার সফলতায় অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সমাধানে ‘এসএমই ইনোভেশন ল্যাব’ চালু করা হয়েছে। সরকারের নীতি ও সহযোগিতা পেলে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবেই ৩০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যের বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি।



