বিশ্ববাজারে দরপতনে দেশে সোনার দামে বড় পতন, এক দিনে কমেছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা
বিশ্ববাজারে দরপতনে দেশে সোনার দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে দেশে সোনার দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনের কারণে এক দিনের ব্যবধানে দেশে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কার্যকর হওয়া নতুন দাম ঘোষণা করেছে, যেখানে সোনার দাম কমেছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা। এই দাম কমানো গতকাল বুধবার সকালে সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।

বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার হালনাগাদ দাম

দাম কমার ফলে আজ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। এছাড়া, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা। এই দাম কমানো মূলত বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যের সাম্প্রতিক পতনের প্রতিফলন, যা স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

রুপার দামেও সামান্য পতন

সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও সামান্য কমতি লক্ষ্য করা গেছে। ভরিতে রুপার দাম কমেছে ১৭৫ টাকা, যার ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। এই পরিবর্তনটি সোনার বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও রুপার দাম পতনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যের প্রবণতা

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ—এই সব মিলিয়ে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল, যা একটি রেকর্ড বৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমছে, যা দেশীয় বাজারে এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রবণতা বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মুদ্রানীতির পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের জন্য এই দাম পতন একটি সুযোগ হিসেবে দেখা দিতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে বাজার অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দামে আরও ওঠানামা হতে পারে।