সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন
সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী আজ সোমবার সকালে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তিনি সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই পদত্যাগের খবর আসে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর পদত্যাগের পরপরই।

পদত্যাগের পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রভাব

সোনালী ব্যাংক সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের পর জিয়া পরিষদের ব্যানারে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ওপর বিভিন্ন চাপ তৈরি হয়। প্রধানত সমর্থিত কর্মকর্তাদের ঢাকার বিভিন্ন শাখায় বদলির জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাতজন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করে, যাদের মধ্যে জিয়া পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স পরিষদের নেতারা ছিলেন।

এই ঘটনায় বিএনপি-সমর্থিত নেতারা দলের শীর্ষ পর্যায়ে অভিযোগ করেন যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম চৌধুরীর ওপর পদত্যাগের চাপ বৃদ্ধি পায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তার সাথে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করছিল না বলেও জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুসলিম চৌধুরীর পেশাদার জীবন

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঘটে। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে যোগদান করেন এবং কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফিন্যান্স, অর্থ বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পেশাদারিত্বের সাথে ব্যাংকটি পরিচালনা করেন। ২০১১ সালের হলমার্ক কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে ব্যাংকটির ভিত্তি মজবুত করতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

সোনালী ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থা

২০২৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা এবং ঋণ ১ লাখ ৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালে ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করে, যা একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত।

তবে হল-মার্ক, বেক্সিমকো, থারমেক্স, ওরিয়নসহ কয়েকটি গ্রুপের ঋণ ও বিনিয়োগ আদায় করতে না পারায় খেলাপি ঋণ কমছে না। ব্যাংকটি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা জোরদার ও অধিকসংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

অন্যান্য পদত্যাগ ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা

একই দিনে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীও পদত্যাগ করেন। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়। সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে আহসান এইচ মনসুরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছিল।

মুসলিম চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে।